আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও পরাজয় ডেকে আনবে: আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক অভিযান ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ওয়াশিংটনের জন্য আরও ব্যর্থতা বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই উদ্যোগ মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিপুল ঋণ এবং ক্রমবর্ধমান সুদের ব্যয়ের চাপে রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যর্থ নীতিগুলো আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান হবে না; বরং দেশটি আরও বড় পরাজয়ের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ক্ষোভও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরাঘচি মার্কিন নীতিকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সতর্ক করেন, এর প্রভাব শুধু ইরানের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও। তার দাবি, সামরিকভাবে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে।

গরিবাবাদি বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে ইরান পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, অন্যদিকে তারা নিজেদের মিত্রদের ইরানের বিরুদ্ধে সহায়তা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। 

তার মতে, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের ব্যর্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সামরিক অভিযান দিয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে না পারার পর সেই ব্যর্থতার পরবর্তী ধাপকে এখন ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করেন। তিনি এটিকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ রয়েছে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প তার ঘোষিত উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘ইকোনমিক ডি-ডে’। একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার এই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #আব্বাস আরাঘচি #ইকোনমিক ডি-ডে