রাজনীতি

বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে লাইভে আসবেন আসিফ মাহমুদ

বায়ান্ন প্রতিবেদন

নিয়োগ-বদলি থেকে শুরু করে টেন্ডার, প্রকল্প ও পদায়ন—বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে নানা অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক।

এবার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে ফেসবুক লাইভে আসছেন আসিফ মাহমুদ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তার দল জাতীয় নাগরিক পার্টির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় এই লাইভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এনসিপির মিডিয়া সেল এক বিবৃতিতে জানায়, আওয়ামী লীগের একটি প্রচারপেজে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং এ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, সেগুলোকে দলটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে। এ বিষয়ে লাইভে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন আসিফ মাহমুদ।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ জানান, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলো চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগগুলোর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগটিই সবচেয়ে বড়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এসব অর্থ দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে অনুসন্ধানের নথিতে।

বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন পদে পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার ও ঘুষ লেনদেন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। একইভাবে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে দুদক।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়া এবং এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করেছেন আসিফ মাহমুদ। পাশাপাশি হোটেল ওয়েস্টিনসহ বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস এবং দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

দুদকের নথিতে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও আলাদা অভিযোগ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন পদায়নের আদেশ জারির বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই অভিযোগগুলো নিয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে আসছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া #এনসিপি