প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ। এবার সেই অধিবেশনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট এবং দেশের অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে বাংলাদেশের আগ্রহ ও প্রত্যাশাও বেশি। এ উপলক্ষে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে পৌঁছে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং একাধিক দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে জলবায়ু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের কাঠামো গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করছে। জাতিসংঘে জলবায়ু নিয়ে আলোচনার সময় এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের অভ্যন্তরে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ।
সাইমুম পারভেজ বলেন, পরিবেশ রক্ষায় দেশে নেওয়া কার্যক্রমগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বলেন, নতুন সরকার পরিবেশ সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজন রয়েছে। সেখানে সংকটটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার সময়সূচি নিয়ে সাম্প্রতিক সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পরিবর্তনের তথ্য এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা বলা হয়েছে।
এসি//