আন্তর্জাতিক

‘আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার’: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরালের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, পাল্টা জবাব দেওয়ার সময় ইরান বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ভাষণের শুরুতেই পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরাই সন্ত্রাসবাদের শিকার।’ তার অভিযোগ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হত্যার পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালায়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান আত্মরক্ষা করেছে, তবে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।

ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস বা ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, গেল ২০০ বছরে ইরান কোনো দেশের ওপর হামলা চালায়নি।

তিনি আরও বলেন, ইরানের শক্তি অর্জনের উদ্দেশ্য অগ্রগতি, অন্য দেশকে হুমকি দেওয়া নয়।

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দেশটির শহরে হামলা চালিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই পার পাওয়া সম্ভব—এমন ধারণা কারও মধ্যে না থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আত্মরক্ষার জন্য ইরান কারও অনুমতির অপেক্ষা করবে না বলে জানান পেজেশকিয়ান।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে দেশটি সরে আসবে না।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অসুস্থ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। পাশাপাশি ইসরালের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, ইসরাইল পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলেও এনপিটির সদস্য নয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ নেই।

গাজা প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, ফিলিস্তিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের জন্য একটি ‘খোলা ক্ষত’ হয়ে আছে। কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘে বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হলেও দখলদারত্ব ও সহিংসতা বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দখল, আগ্রাসন ও অবিচার অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধও চলবে। বোমা হামলা ও অবরোধের মাধ্যমে সেই আকাঙ্ক্ষা দমন করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাষণের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে পেজেশকিয়ান বলেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকি বাড়ানো হলে ইরানি জনগণের প্রতিরোধ আরও জোরালো হবে। তবে ইরান আলোচনা ও সংলাপে প্রস্তুত থাকলেও ‘শক্তির ভাষা’ মেনে নেবে না বলে জানান তিনি।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #পেজেশকিয়ান