পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিনে সাগরে মাছ ধরার ট্রলার বিকল হয়ে পাঁচদিন ধরে ভেসে থাকার পর ১৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে স্বজনদের পাঠানো একটি মাছ ধরার ট্রলারে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) নাজমুল হাসান।
তিনি জানান, ‘তাদের একটি ট্রলার পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।
বিকল ট্রলারের মালিক হানিফ রাঢ়ীর ভাই ফিরোজ জানান, তার ভাইসহ ওই ট্রলারের ১৮ জন মাঝিমাল্লাকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সকাল ৯টার দিকে সোনারচর সংলগ্ন ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটা দূর এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের পাচকপাট স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর হানিফ মাঝির মালিকানাধীন এফবি তাওসীন নামক ট্রলারের পাখা ভেঙে যায়। এরপর থেকে সোনারচর ও রূপারচরের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল অবস্থায় নোঙর করেছিল ট্রলারটি।
মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর ট্রলার মালিক হানিফ মাঝি বিষয়টি তার এলাকার আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারীকে জানান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধারের সহায়তা চাওয়া হয়,
তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যে উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে আড়তদারের পাঠানো ট্রলারে পাঁচদিন পর ১৮ জেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে গতকাল রাঙ্গাবালী কোস্টগার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন মুঠোফোনে বলেন,‘ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাঁদের কাছে নেই।
তিনি বলেন,‘তাঁদের টহল দলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে’।
তবে এ বিষয়ে ভোলায় দায়িত্বরত কোস্টগার্ডকে জানিয়েছেন। তবে সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি।
এর আগে ট্রলার মালিক হানিফ রাঢ়ির ছেলে মেহেদী হাসান জানান , ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর বাবাসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তাঁরা একই স্থানে অবস্থান করছেন।
আই/এ