আবহাওয়া

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও

বায়ান্ন প্রতিবেদন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ‘মুরাসু’ নামের এই ঘূর্ণিঝড় আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (০১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও এর কাছাকাছি মধ্য-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মুরাসু’। এটি তামিল শব্দ, যার অর্থ ‘ঢোল’। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সামান্য আশঙ্কা রয়েছে। তবে আপাতত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই আঘাত হানার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। সে সময় ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ওই ক্ষয়ক্ষতির পর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে নতুন করে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ২ নভেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও পুদুচেরির ইয়ানামে বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পরদিন এসব এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উড়িষ্যার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ৩ ও ৪ নভেম্বর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তর তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। ২ নভেম্বর বিকেলের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছাতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটারে।

এরপর ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৩ নভেম্বর ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ৪ নভেম্বর সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ওই সময় বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বঙ্গোপসাগর #নিম্নচাপ #বৃষ্টি #ঘূর্ণিঝড়