স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছর পর প্রথমবারের মতো ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে মিথানল পাঠাতে যাচ্ছে ভারত। আসামের ডিব্রুগড় থেকে নদীপথে এই রাসায়নিক পণ্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের নজির তার জানা নেই।
মিথানল পরিবহনের জন্য আসাম সরকারের অভ্যন্তরীণ জলপরিবহন বিভাগের দুটি কার্গো জাহাজ ইজারা নিয়েছে আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস। প্রায় ৩০ বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা জাহাজ দুটি গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে মেরামত করে পরিবহনের উপযোগী করা হয়েছে।
প্রাথমিক চালানে দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে থাকবে ২৭টি করে পাত্র, যার প্রতিটিতে প্রায় ২০ টন মিথানল বহন করা হবে।
ইতোমধ্যে মিথানল পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা প্রথম কার্গো জাহাজ ‘ডিএলবি পাটকাই’ ডিব্রুগড়ের বগিবিল ঘাটে পৌঁছেছে। বগিবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে জাহাজগুলোর প্রায় সাত দিন সময় লাগতে পারে।
আসাম পেট্রো-কেমিক্যালসের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্রের এই নৌপথ চালু হলে দুই দেশের মধ্যে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আসাম থেকে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্য পাঠানোর পথও আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মিথানলবাহী জাহাজটি ঠিক কবে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
এসি//