কঙ্গো থেকে ফেরা এক রোগীর মৃত্যুর পর কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে জানান, ওই কেনীয় নাগরিক শনিবার কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে দেশে ফেরেন। হেমোরেজিক ফিভারের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাকে নাইরোবির একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওই ব্যক্তি গেল সাত বছর ধরে কঙ্গোতে বসবাস করছিলেন। প্রায় এক মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তিনি সেখানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কামপালায় যান এবং সেখান থেকে বিমানে নাইরোবি পৌঁছান।
কেনিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর সংস্পর্শে আসা ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসাকর্মীরাও রয়েছেন। একই ফ্লাইটে উগান্ডা থেকে নাইরোবি আসা আরও ২৩ যাত্রীকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক প্যাট্রিক আমোথ জানান, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ২১ দিন আইসোলেশনে রাখা হবে। পরীক্ষায় ইবোলা নেগেটিভ এলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিধি মেনে রোগীর মরদেহ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নাইরোবি বিমানবন্দরে ওই রোগীর স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। তবে সে সময় তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ধরা পড়েনি। পরে স্বজনেরা ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে আইসোলেশনে নেন।
ইবোলার সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে কেনিয়ার সীমান্তবর্তী সব প্রবেশপথে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন সংক্রমণ শনাক্তে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। মে মাস থেকে দেশটির পাঁচটি পরীক্ষাগারে ২৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নমুনা পজিটিভ এসেছে।
চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোর পর কেনিয়া চতুর্থ দেশ হিসেবে সংক্রমণ শনাক্ত করেছে। এর আগে উগান্ডায় ২০টি এবং ফ্রান্সে একটি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়।
এমএ//