বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের যৌক্তিকতা এবং গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ প্রশ্ন তোলেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে হাইকোর্টে একটি মামলার রায় হয়েছে। পরে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সে কিমিটির সুপারিশ কী ছিল, সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের ৩৪ ধারায় বলা আছে, কমিশন শুনানির মাধ্যমে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করবে। এ জন্য তারা একটি প্রবিধান তৈরি করবে। গত ২৩ বছরে কেন এ প্রবিধান তৈরি করা হলো না—তা তাঁরা বৈঠকে জানতে চেয়েছেন। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, সম্প্রতি এলপিজির দাম বাড়ানো, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গণশুনানি করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
কমিটির আরেক সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ডিজেলের মজুত আছে মাত্র ৩১ দিনের। এটাকে কীভাবে বাড়ানো যায়, তারা সেটা দেখতে বলেছেন। এখন ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। তাঁরা এ বিষয়ে ফরেনসিক অডিটের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, রান্নার এলপিজির সিলিন্ডার এখন ২ হাজার ৫০০-৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বাজারে সরকার অনুপস্থিত, কোনো নজরদারি নেই। তাঁরা সরকারের নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন।
তিনি দাবি করেন, ভবনের ছাদে ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনায় ১৫০ কোটি টাকার মতো খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারের প্রকল্পে দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার ওপরে। তাঁরা মন্ত্রণালয়কে আগামী বৈঠকে এ ধরনের প্রকল্পে কোন খাতে কত খরচ ধরা হয়েছে, তার বিবরণ দিতে বলেছেন।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবনের ছাদের সোলার প্যানেল থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
আই/এ