দেশজুড়ে

নিয়ন্ত্রণে আসেনি টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন, ছড়িয়েছে পাশের ভবনে

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার দ্বিতীয় ইউনিটের একটি ছয়তলা ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করেন। সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শাহিন আলমের নেতৃত্বে প্রথমে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। আগুনের ব্যাপকতা বাড়তে থাকায় গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত ইউনিট আনা হয়। প্রথমে ১১টি ইউনিট কাজ করলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারখানার একটি ভবনে আগুন লাগার পর তা পাশের পেনসিলিং ভবনের চারতলায় ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার ভেতরে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের তাপ ও ঘন ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকায় অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রাসায়নিকের তীব্র গন্ধেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহিন আলম জানান, কারখানার ভেতরে উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পদার্থ, ধাতব যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন শিল্পসামগ্রী রয়েছে। আগুনে এসব মালামাল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত করে জানা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো কাজ করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের শুরুতে কারখানার নিজস্ব পানির ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলেও একপর্যায়ে পানির সংকট দেখা দেয়। পরে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের এলাকা থেকে পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। আগুন যাতে আশপাশের অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #টঙ্গী #আগুন #ওষুধ কারখানা