জাতীয়

আজ বিজয়া দশমী, বিদায়ের ক্ষণে মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের সুর

বায়ান্ন প্রতিবেদন

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ শেষে আজ চারদিকে বিদায়ের সুর। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পাঁচ দিনের উৎসবের শেষ দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা, সিঁদুর খেলা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিজয়া দশমী। দিন শেষে ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিজয়া দশমীর বিহিত পূজা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দর্পণ বিসর্জনের পর শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে নদী, জলাশয়সহ নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন দেওয়া হবে দেবী দুর্গার প্রতিমা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।

হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরৎকালে মর্ত্যলোকে আসেন দেবী দুর্গা। পূজা ও আরাধনা শেষে বিজয়া দশমীতে ফিরে যান কৈলাসে। তাই উৎসবের শেষ দিনে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মনে থাকে বিদায়ের বিষাদ। প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর সময় অনেকের চোখে দেখা যায় অশ্রু। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

বিজয়া দশমীর অন্যতম আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেবেন সনাতনী নারীরা। দেবীর চরণে অর্পিত সিঁদুর নিয়ে তারা একে অপরকে রাঙিয়ে তুলবেন। পান ও মিষ্টি নিবেদন করে দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষবারের মতো প্রার্থনা করবেন তারা।

প্রচলিত শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে সেই সিঁদুর নিজেদের সিঁথিতে ধারণ করেন।

তাদের বিশ্বাস, এর মধ্য দিয়ে দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সিঁদুর খেলার এই আয়োজন উৎসবের শেষ মুহূর্তে নারীদের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের আবহ তৈরি করে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছে ঘোড়ায় চড়ে, আর বিদায় নিচ্ছেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস।

তবে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য কেবল দেবীকে বিদায় জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের ভেতরের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়াই এই দিনের মূল শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই বিজয়া দশমীর মূল বার্তা।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিজয়া দশমী #দূর্গাপূজা #দেবী দুর্গা