দেশজুড়ে

আ’লীগের সঙ্গে জামায়াত একাকার, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না: মতিউর রহমান আকন্দ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

যে দল ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে, আল্লামা সাঈদীর মত বিশ্ববরণ্যে মুফাসসিরে কোরআনকে শোয়ার জন্য একটা বিছানায় জায়গা দেয় নাই। আমরা আইনজীবীরা কোর্টে লড়াই করেছিলাম, বিচারপতি বলেছেন যে উনি যে সম্মানের ব্যক্তি তাতে সাজা হইলেও উনি তৃতীয় শ্রেণীর এখানকার স্ট্যাটাস পাবেন কারাগারে, এই সুযোগটাও দেয় নাই। কয়েকটা তোষক বিছিয়ে উঁচু করে তাকে বসার এবং শোয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এই জুলুম যে সরকার করেছে, এই জালিম, এই খুনিদের সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে, এটা বাংলাদেশের কোন পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলার একটি পার্কের কমিউনিটি সেন্টারে কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) বলা শুরু করে দিয়েছেন, কেন বলতেছেন? উনি বিগত নির্বাচনে এই শক্তির কাছ থেকে সমর্থন নিয়েছেন। শামীম ওসমান সাহেব এটা ফাঁস করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, রেজওয়ানা হাসান তো প্রকাশ্যেই বলেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীকে তারা মূল জায়গায় আসতে দেন নাই। উনি তো মাইকে বলছেন, উনি উপদেষ্টা ছিলেন এবং উনি মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন।  এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়, উনি একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের ভিত্তিতে, একটি সমযোতার মাধ্যমে, একটি শক্তির সাথে আঁতাত করে, তিনি ভোটকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন। তাদের ইশারা আজকে তারা কথা বলছেন। উনি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চান, দোষ চাপাতে চাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর উপরে।

মতিউর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি কমে গেছে? উনারা সরকার সাড়ে ছয় পার্সেন্ট ধরেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে তিন দশমিক এক বেশি হবে না। কর্মসংস্থান নাই, উৎপাদন নাই, বিনিয়োগ নাই, কলকারখানা বন্ধ, গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই। ফলে সারকারখানা বন্ধ। দেশের অবস্থা খুব খারাপ। এই সরকার যখন দেখছে, আগামী দিন একটা গণবিদ্রোহ হবে, আর এই গণবিদ্রোহ হওয়ার আগেই উনারা এখন বলা শুরু করছেন যে আওয়ামী লীগ আর জামায়াতে ইসলামী নাকি একসাথে হয়ে তাদের বিরুদ্ধে লেগেছে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ আপনারা কি করেন? আপনারা আওয়ামী লীগকে ধরতে পারেন না? ধরেন না কেন? কুড়ি জনের ফাঁসি হয়েছে, একটা ফাঁসিও তো আপনারা কার্যকর করেন নাই! ’ 

মতিউর রহমান আকন্দ আরও বলেন, ‘ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লং মার্চ ঘোষণা করেছে, সাতটি দফা, সাত দফার কোথাও সরকার পতনের আন্দোলন নাই। তাইলে এত ভয় কেন আপনাদের? ‘  শুধু আমিরে জামায়াত একবার বলেছেন যে যদি দাবি মেনে নেওয়া না হয়, সাত দফা এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে, তাদের মস্তক কাঁপা শুরু হয়ে গেছে। উনারা এখনো বুঝেন নাই, আগের দিন আর এই দিন এক নয়। 

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আপনারা অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘ চৌরাশিটা বিষয়ে আপনারা একমত হয়ে হইয়া স্বাক্ষর দিলেন। এখন বলছেন স্বাক্ষর না দিলে নির্বাচন যদি না হইত এই ভয়ে স্বাক্ষর দিয়েছেন। এত বড় প্রতারক! জনগণের সাথে আপনারা প্রতারণা করেছেন, এর শিক্ষা আগামী দিনে আপনাদেরকে পেতে হবে ইনশাআল্লাহ। জামাত কাউকে ভয় করে না। জামায়াত একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে।  জামাতের সাথে আঠারো কোটি মানুষ আছে।

আগামী দিনে এই রাষ্ট্র একমাত্র ইসলামপন্থীদের হাতেই আসবে ইনশাআল্লাহ। কোনো ভারতের দালাল, কোনো ফ্যাসিস্টের দালাল স্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না ইনশাআল্লাহ।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর ভাপতিত্বে সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অধ্যক্ষ মো. তৈয়বুজ্জামান ও মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ারী থানার আমির মাহবুবুর রহমান মাহফুজ প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যের পর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী দলীয় নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালকদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর তিনি সভাপতির আসন ছেড়ে রুকনদের সারিতে বসেন।পরে জেলার আট শতাধিক পুরুষ ও নারী রুকন গোপন ব্যালটে আগামী দুই বছরের জন্য জেলা আমির নির্বাচনে ভোট দেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাজী সাইফুল্লাহ। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম ও মাওলানা এস এম ইউসূফ।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #আল্লামা সাঈদী #কিশোরগঞ্জ