জাতীয়

তাহসিফের বাসার উল্টো পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন দিশা!

বায়ান্ন প্রতিবেদন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর পর আত্মগোপনে চলে যান তার কথিত বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশা। বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে চলছিলেন তিনি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে ১৯ বছর বয়সী দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণমাধ্যমে তার নাম প্রকাশের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের আগে তার বাসার ঠিক বিপরীত পাশের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন দিশা। ঘটনার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করেন তিনি। শনিবার রাতে খালার বাসায় গিয়ে এক ব্যক্তিকে নিজের নিরাপদে থাকার কথা জানান। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় রোববার (০১ নভেম্বর) দিশাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান দিশা। রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ, তার বন্ধু দীপ ও দিশাকে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তারা মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে যান দীপ। পরে তিনজন একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন।

রেস্টুরেন্টের আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও দিশা লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ঘটনার আগে তাহসিফ ও দিশা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ গিয়েছিলেন। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের পাশাপাশি তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে তাহসিফের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ। তবে তার দেওয়া তথ্যে অসংগতি পাওয়া যায়। পরে দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে জানান, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যার রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখতে তাঁকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তবে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ, দীপ ও দিশা কোথায় গিয়েছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাদের পরবর্তী অবস্থান ও যাতায়াতের তথ্য জানতে কাজ করছে তদন্তকারী দল।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কে এম তাহসিফ সৌরি #ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট #হত্যা