Connect with us

জাতীয়

যেকারণে ঢাকা সফরে আসছেন ‘বাজপাখি কূটনীতিক’ ডোনাল্ড লু

Published

on

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ডোনাল্ড লু। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট ডোনাল্ড লু আবারও দু’দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস তাঁর সফরের তারিখ ঘোষণা না করলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বায়ান্ন টিভিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্রটি জানায়, চলতি মাসের মাঝামাঝি কোনো এক সময় তিনি ঢাকা সফর করবেন।

ঢাকার কূটনীতিক পাড়ার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি ঢাকা আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেট সেক্রেটারি হিসেবে এটি হবে তার তৃতীয় ঢাকা সফর আর দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের  পর প্রথম সফর।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ডোনাল্ড লু’র সফরের বিষয়টি এখন  ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ার আলোচনায় অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন ডোনাল্ড লু।

ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য কী হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বায়ান্ন টিভিকে বলেন, ‘তার সফরের উদ্দেশ্যটি এখনও ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বা ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানায়নি। কবে আসছেন তাও বলেনি।  ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন অবাধ ‍ও সুষ্ঠু হয়নি বলে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানায়। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকেও একই বার্তা দিয়েছেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। যেহেতু তিনি এই অঞ্চলের দেশগুলোতে মার্কিন স্বার্থ দেখভাল করেন তাই ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আলোচনার জন্য ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য হতে পারে।’

একই মত দিয়েছেন  সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত এ কে এম আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে  নিজেদের ইচ্ছে পূরণ না হলেও আওয়ামী লীগের টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে ওঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠি লেখার পরই সম্পর্ক উন্নয়নে ওই মাসের শেষের দিকে ঢাকা সফরে আসেন তাঁর বিশেষ সহকারী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক এইলিন লাউবাখেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।একই উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্ব এক‌টি প্রতি‌নি‌ধিদল নিয়ে ঢাকা সফর করে গেছেন। ডোনাল্ড লু’ও একই কারণে ঢাকা সফরে আসতে পারেন।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের এই সাবেক হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন-ঢাকার একই সঙ্গে কাজ করার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও তিনি আলোচনা করতে পারেন এই সফরে।’

Advertisement

কে এই ডোনাল্ড লু?

২০২২ সালের শুরু থেকেই বারবার সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় তার নামই বেশিবার উচ্চারিত হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-সংক্রান্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চালক হিসেবে মনে করা হয় তাকে। এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল বাস্তবায়নে ডোনাল্ড লু রয়েছেন নেতৃত্বের আসনে।

ফরেন সার্ভিস অফিসার হিসেবে ৩০ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অধীনে কাজ করছেন লু। এর মধ্যে ১২ বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন পাকিস্তান ও ভারতে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ডোনাল্ড লু’র নানামুখী তৎপরতা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতির ঝুড়িতে দুর্দান্ত সাফল্য থাকায়  দুই কূটনীতিককে বলা হয়ে থাকে ‘বাজপাখি কূটনীতিক’। তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া এবং দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।

Advertisement

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি দুইদিনের সফরে ঢাকা আসেন ডোনাল্ড লু। ওই সফরে তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন।

নির্বাচন নিয়ে ডোনাল্ড লু বলেন, ‘একটি গ্রহণযোগ্য, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশও তাকে আশ্বস্ত করে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে।

২০২৩ সালের ১১ জুলাই দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকা সফরে  আসেন ডোনাল্ড লু। পররাষ্ট্র দপ্তরের নাগরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে তার ওই সফর ছিলো  একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে বাংলাদেশের জন্য স্বতন্ত্র মার্কিন ভিসা নীতি ঘোষণাসহ নানামুখী তৎপরতার অংশ।

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দেড় মাস আগে আবারও তৎপরতা চালান ডোনাল্ড লু। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেনা বলে বিএনপি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে গত নভেম্বরে  দেশের বড় তিনটি দলকে চিঠি দিয়ে ‘পূর্বশর্ত ছাড়া’ সংলাপে বসার আহবান জানান ডোনাল্ড লু। এতে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ওইসময় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এক দলের চেয়ে অন্য দলকে প্রাধান্য দেয় না। কোনো ধরণের পূর্বশর্ত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষকে সংলাপে বসার আহবান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে যারা গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে যুক্তরাষ্ট্র।

Advertisement

ডোনাল্ড লু’র তৎপরতার কারণে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত!

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক  সংবাদমাধ্যম ইন্টারসেপ্ট-এ এক চমকপ্রদ খবর বেরোয়। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, গত বছর(২০২২) পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন। ওই সাংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, এমন একটি গোপন কূটনৈতিক তারবার্তা তাদের হাতে রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইন্টারসেপ্ট তাদের ওয়েবসাইটে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর মধ্যকার কথিত কথোপকথনের বিস্তারিত প্রকাশ করে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ তাঁদের মধ্যে সেই কথাবার্তা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মস্কো সফরে যাওয়ার দুই সপ্তাহ পর মাজিদ ও ডোনাল্ড লুর মধ্যে এই কথোপকথন হয়। একই দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছিল।

ওইসময় ডোনাল্ড লু পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মাজিদকে বলেন, ‘ইমরান খানের মস্কো সফর এবং রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ অবস্থানে’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ‘খুবই উদ্বিগ্ন’।’

Advertisement

লু বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সফল হলে ওয়াশিংটন সবাইকে ক্ষমা করে দেবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর তাঁর সিদ্ধান্তেই হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই কথিত কথোপকথনের বিস্তারিত ‘গোপন তারবার্তা’ ইসলামাবাদে পাঠিয়েছিলেন মাজিদ। ডোনাল্ড লু অবশ্য তার বিরুদ্ধে অনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ফাঁস হওয়া পাকিস্তান সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের এক মাস পর পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হয়। ওই ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন।’

২০২২ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান দাবি করেছিলেন, তিনি ওই গোপন বার্তা সম্পর্কে জানতেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করেছিল।

এমআর//

Advertisement
Advertisement

জাতীয়

এখন সংলাপের নামে নতুন প্রহসন করছে সরকার : সমন্বয়ক নাহিদ

Published

on

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়ে সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর দায় সরকারেরই। সরকার আলোচনার কোনো পরিস্থিতি রাখেনি।এখন সংলাপের নামে, দাবি আদায়ের নামে নতুন প্রহসন করছে। বললেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে ফেসবুক দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, যদি এখনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজপথ থেকে সরানো না হয়; যদি হল, ক্যাম্পাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে না দেয়া হয়, যদি এখনো গুলি অব্যাহত থাকে তাহলে সরকারকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে। কেবল কোটা সংস্কার করলেই ফয়সালা হবে না। প্রথমে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার দাবি কর্ণপাত করেনি৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা করছে। এখন সংলাপের নামে, দাবি আদায়ের নামে নতুন প্রহসন করছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির নামেও কোনো প্রহসন মেনে নেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিরস্ত্র করে রাজপথ থেকে অপসারণ করতে হবে। শহীদের রক্তের উপর কোনো সংলাপ হবে না। সরকারকেই সমাধানের পথ বের করতে হবে৷ বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আহ্বান থাকবে খুনি সরকারকে সমর্থন না দিয়ে ছাত্রদের পাশে থাকুন।

বাংলাদেশে গণহত্যা চলছে দাবি করে নাহিদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, আমাদের আজ রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার অথবা গুম করে ফেলতে পারে। আপনারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন। সবাই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করুন।

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকসহ ৬ জনের মরদেহ

Published

on

ঢাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ নিহত ছয়জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

তিনি জানান, নিহত ছয়জনের মরদেহ বর্তমানে ঢামেক মর্গে রাখা আছে।

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একজন ঢাকা টাইমসের নিজস্ব প্রতিবেদক মেহেদি হাসান (২৮)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছিলেন মেহেদি।

Advertisement

বাকিদের মধ্যে আছেন কাজলার এক রিকশাচালক, শনির আখড়া এলাকার দোকানি ওয়াসিম (৪০), যাত্রাবাড়ীর ক্যামিকেল ব্যবসায়ী নাজমুল (২৮) ও আজিমপুরের মোহাম্মদ আলী (২২)। এ ছাড়াও গতকাল শনির আখড়ায় সংঘর্ষে আহত হয়ে ঢামেকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ইকবাল (২২)।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘ইঙ্গিতপূর্ণ’ বক্তব্যকে ঘিরে গত রোববার মধ্যরাত থেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজ। এরপর সোম, মঙ্গল ও বুধবার টানা তিনদিন সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন জোরালো হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমাতে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগও মাঠে নামে। এতে সোমবার ও মঙ্গলবার সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার একদিনেই ৩ শিক্ষার্থীসহ ৬ জন মারা যান। এদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদকে পুলিশ নিরস্ত্র অবস্থায় সামনাসামনি গুলি করে হত্যা করে।

অন্যদিকে, এসব হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবারও আন্দোলন-সংগ্রামে উত্তাল ছিল রাজপথ। গতকাল সন্ধ্যায় এ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই ভাষণেও সমস্যার কোনো সমাধান দেয়া হয়নি দাবি করে এবং প্রতিটি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীরা আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

এএম/

Advertisement
পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ

Published

on

রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবনে আন্দোলনকারীদের দেওয়া আগুন ছড়িয়ে পড়ায় রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিটিভিতে কর্মরত একাধিক সাংবাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, বিটিভির মূল ভবনের নিচতলায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মূল স্ক্রিনে তারা কালো দাগ দেখতে পান। পরবর্তীতে বাধ্য হয়েই সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

অবশ্য এর আগে বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য সহযোগিতা কামনা করে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।’

এএম/

Advertisement
পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত