ফুটবল বিশ্বে যে ইতিহাস শুধু স্পেনেরই
বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিল স্পেন। প্রথম দেশ হিসেবে একই সময়ে নারী ও পুরুষ—দুই বিশ্বকাপের শিরোপাই নিজেদের দখলে রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছে ইউরোপের দেশটি।
২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে যে সাফল্যের সূচনা হয়েছিল, তিন বছর পর সেটিই পূর্ণতা পেল পুরুষদের বিশ্বকাপ জয়ে। নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেনের পুরুষ দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। ২০১০ সালের পর এটিই স্পেনের পুরুষ দলের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
এর আগে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল স্পেন। ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারানো সেই ম্যাচে ২৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেছিলেন অধিনায়ক ওলগা কারমোনা। সেই জয়ের মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন।
দুটি ফাইনালের মিলও বেশ চোখে পড়ার মতো। উভয় ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দিয়ে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে স্পেন। ২০২৩ সালে ইতিহাসের সূচনা করেছিল নারী দল, আর ২০২৬ সালে সেই গৌরবের সঙ্গে নিজেদের নাম যুক্ত করল পুরুষরাও।
নারী ও পুরুষ—উভয় বিশ্বকাপ জেতা দ্বিতীয় দেশ এখন স্পেন। এর আগে কেবল জার্মানিই দুই বিভাগে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। তবে একই সময়ে নারী ও পুরুষ—দুই বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের দখলে রাখার নজির গড়তে পারেনি তারা। সেই অনন্য অর্জনের প্রথম মালিক এখন স্পেন।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, স্পেনের নারী দল অন্তত ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত এবং পুরুষ দল ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে থাকবে। ফলে আগামী এক বছর বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দুটি ট্রফির বর্তমান অধিকারী হিসেবে একই দেশের নামই উচ্চারিত হবে—স্পেন।
ফিফাও এই কীর্তিকে ঐতিহাসিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগেই একই সময়ে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার ঘটনা এর আগে ফুটবল ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।
এসি//