আবারও জাতীয় জুট মিলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় ৬ হাজার মানুষ
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় জুট মিল। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনায় প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহান শাহ আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দেশের প্রান্তিক এলাকাগুলোতে শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের প্রকল্পটিতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জুট মিলের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। একই সঙ্গে কারখানাটিকে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পরিবেশবান্ধব শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে কওমী জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। । কিন্তু নানা সংকট, লোকসান ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার কারণে ২০০৭ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের পর ২০১১ সালে নতুন নামে ‘জাতীয় জুট মিল’ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ২০২০ সালের ১ জুন আবারও মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ লিজ নিয়ে মিলটি চালুর উদ্যোগ নেয় এবং উৎপাদন শুরুর দুই বছর পর ২০২৪ সালে ফের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
মিল বন্ধ হওয়ার সময় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাসসহ বিভিন্ন পাওনা অনাদায়ী থাকার অভিযোগ রয়েছে। অনেকের দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা রয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ না থাকায় এসব শ্রমিক পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক শ্রমিক জানান, দীর্ঘদিন মিল বন্ধ থাকায় এলাকার অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আগের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সময়ে মিলের যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। নতুন ব্যবস্থাপনায় মিলটি চালু হলে সিরাজগঞ্জের বহু বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জাতীয় জুট মিল চালু হলে রায়পুরসহ আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আর/আই