আবহাওয়া

কুয়াশার চাদরে মোড়া দেশ, শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে জনজীবন

বায়ান্ন প্রতিবেদন

হিমেল হাওয়ার ঝাপটা, ঘন কুয়াশার চাদর আর সূর্যহীন দিনের ভেতর দিয়ে দেশজুড়ে নেমে এসেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ভোরের বাতাসে কাঁপছে জনজীবন, শীতের কামড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। পৌষ-মাঘের মধ্যভাগে এসে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। সবচেয়ে বেশি কাঁপছে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর ৬টার দিকে এই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এখানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ, আর ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে মাত্র ৬০০ মিটারে।

এর আগের দিন সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে পাবনার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ৩ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁর বদলগাছী ও পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে শীতের এই ধাক্কা এখানেই থামছে না। জানুয়ারি মাসজুড়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশের অনেক জায়গায় দিনের পর দিন সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস মিলিয়ে শীত অনুভূত হচ্ছে আরও তীব্রভাবে।

শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতকালীন রোগ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা। এদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা।

রাজধানীর শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, তীব্র শীতের কারণে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস এবং ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি এই সময়ে শিশুদের উষ্ণ রাখা, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন।

দেশের শীতের ইতিহাসে তাকালে দেখা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই সময়ে রংপুরের সৈয়দপুরে রেকর্ড হয়েছিল ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চলতি শীত সেই স্মৃতির কাছাকাছি পৌঁছাবে কি না, তা এখনই বলা না গেলেও স্পষ্ট—শীত এখনও অনেকটা পথ বাকি। কুয়াশার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই শীত যে আরও কিছুদিন জনজীবনকে কাঁপিয়ে রাখবে, তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই মিলছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #হিমেল হাওয়া #শীত #দেশ #কুয়াশা