দেশজুড়ে

৭.৭ ডিগ্রির হিমেল ছোঁয়ায় কাঁপছে পঞ্চগড়

বায়ান্ন প্রতিবেদন

উত্তরের হাওয়ায় যেন শীতের দীর্ঘশ্বাস। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে বাংলার সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়। ভোর নামলেই কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়ছে জনজীবন, কাঁপছে মাঠ-ঘাট, নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যস্ততা। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত এই জনপদের মানুষ এখন শীতের সঙ্গে নিত্য লড়াইয়ে ব্যস্ত।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল শতভাগ, আর উত্তরের হিমেল বাতাস বইছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে। ফলে অনুভূত তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

এর আগের দিন শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহজুড়েই তাপমাত্রার ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এর আগের দিন বুধবার (৭ জানুয়ারি) তাপমাত্রা নেমে এসেছিল আরও নিচে—সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ব্যাপক ওঠানামা হচ্ছে। টানা দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর বর্তমানে জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন এই শীতল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। কুয়াশার কারণে সকালবেলা যানবাহন চলাচলেও দেখা দিয়েছে ধীরগতি। প্রকৃতি যেন শীতের নিঃশ্বাসে জানিয়ে দিচ্ছে—পঞ্চগড়ে শীত এখনও তার শক্ত অবস্থানেই আছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #শীত #কুয়াশা #পঞ্চগড়