দেশজুড়ে

চলন্ত ট্রেনের এসি কোচের কনডেন্সার কয়েল চুরি

পঞ্চগড় এক্সপ্রেস

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একটি ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচ থেকে কনডেন্সার কয়েল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

চুরির পর ক্ষতিগ্রস্ত ‘গ’ নম্বর কোচটি পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন-এ রেখে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোচটিকে মূল রেক থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১৩টির পরিবর্তে ১২টি কোচ নিয়ে ট্রেনটি চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি স্পেয়ার কোচ হিসেবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, কোচটির ছাদে থাকা কনডেন্সার কয়েলের ঢাকনা খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। এই কয়েলটি কম্প্রেসার থেকে আসা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা তরলে রূপান্তর করে, এসি ব্যবস্থার জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি ঢাকা থেকে দ্রুতযান এক্সপ্রেসের সঙ্গে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে পঞ্চগড়ে পৌঁছায়। এর আগের দিন বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছাড়ার পর পথিমধ্যে এসির কার্যকারিতা কমে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং রেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর, এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি এবং সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি—এ নিয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা তিনবার ঘটল।

পঞ্চগড় রেলস্টেশনের ইলেকট্রিক বিভাগের শ্রমিক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মাঝে-মধ্যে এমন ঘটনা ঘটছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঢাকা থেকে আসার পথেই চুরি হচ্ছে। 

ইলেকট্রিক অফিসের ইনচার্জ পাভেল মাহমুদ জানান, এসির কার্যকারিতা কমে গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। কীভাবে চুরি হয়েছে তা জানতে সংশ্লিষ্টদের তলব করা হয়েছে।

স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, সকালে ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে ইলেকট্রিক বিভাগ থেকে একটি কোচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই কোচের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আগেই যারা টিকিট কেটেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোচ কম নিয়েই ট্রেনটি চলবে, এতে রাজস্ব আয়েও প্রভাব পড়তে পারে বলে জানান তিনি।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পঞ্চগড় এক্সপ্রেস #ট্রেন #বাংলাদেশ রেলওয়ে #এসি কোচ