ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের উত্তাপের মধ্যেই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “গুরুত্বের সঙ্গে” ভাবছেন ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে। তেহরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলি, আর বিদেশি হুমকির সংমিশ্রণ আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্পকে ইরানের লক্ষ্যবস্তু এবং হামলার কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের কোথায় এবং কীভাবে হামলা চালানো যেতে পারে সে বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) রাতে দেশব্যাপী সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন ঘটে। এর পর শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে আবারও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন। শনিবারও (১০ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ হয়েছে।
কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা বলেছেন, নিহত ও আহতদের ভিড় এত বেশি যে হাসপাতালে স্থান সংকটে পড়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরাও রয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে গণবিক্ষোভ দমন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনার খবর একসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আরও তীব্র করছে। তেহরানের রাস্তায় গণপ্রদর্শন ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ—এই দুইয়ের সমন্বয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসি//