আন্তর্জাতিক

আদালতের রায়েও থামছে না ট্রাম্প, নতুন করে ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তার আগের বৈশ্বিক শুল্ক নীতি বাতিল করলেও তিনি বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ৬–৩ ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। রায়ের পর তিনি আদালতের সমালোচনা করে বলেন, কিছু বিচারক দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ অবস্থান নেননি।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, যেসব দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে অন্যায্য সুবিধা নিয়েছে, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সেই পরিস্থিতি বেশিদিন থাকবে না।

রায়ের জবাবে তিনি জানান, নির্বাহী আদেশ জারি করে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে আরও ১০ শতাংশ যোগ করা হবে। একই সঙ্গে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন করে তদন্ত শুরুর কথাও বলেন। এই ধারায় কোনো দেশ বৈষম্যমূলক বা অন্যায্য বাণিজ্য আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স এক্ট’–এর আওতায় জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের যুক্তি দেখিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেই ব্যাখ্যা নাকচ করে দেয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, কর সংক্রান্ত ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হয়নি।

এখন ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগের কথা বলছেন। এই বিধান অনুযায়ী বড় ধরনের পরিশোধ ভারসাম্য ঘাটতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা যায়, যা ১৫০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মেয়াদ বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

তবে কংগ্রেসে এ প্রস্তাব সহজে অনুমোদন পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। নিজ দলেও তার শুল্ক নীতি নিয়ে মতভেদ আছে। ট্রাম্পের বক্তব্য, শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি তার রয়েছে; এখন কেবল নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প #ট্রাম্প