পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের আশাব্যঞ্জক ফলন হলেও দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে দিশেহারা প্রান্তিক পর্যায়ের পেঁয়াজ চাষীরা। মওসুমের শুরুতে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষীরা প্রত্যাশার অধিক মূল্য পেলেও সরবরাহ বাড়ার সাথে সাথে কমতে শুরু করেছে বাজারদর। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর নেমে এসেছে অর্ধেকে।
লোকসান থেকে বাঁচতে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ সহ সরকারের নিকট মুড়িকাটা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান পেঁয়াজের রাজধানীখ্যাত পাবনার পেঁয়াজ চাষীরা।
এ এলাকার কৃষকদের দাবি কালো বাজারির মাধ্যমে সার বিক্রয় বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষকের এই লোকসান ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে। তবে উচ্চ মূল্যে সার বিক্রয়ের পিছনে সার বাজার মনিটরিং কমিটির গাফিলতি ও উপজেলা কৃষি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে মনে করেন তারা।
জানা যায়, পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া,বেড়া ও সদর উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে চলতি বছর। কৃষি জমি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। এখানকার উৎপাদিত পেঁয়াজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী (ঢাকা) সহ দেশে ২৮-৩০টি জেলায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। যা জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার তথ্যানুযায়ী এবছর জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯৬০ (১ হেক্টর=৭.৪৭ বিঘা) হেক্টর ও হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫.৮৮ মেট্রিক টন (বিঘা প্রতি ৫৩.১৪ মণ)। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রতিমণ পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ ১,৪০০ টাকা (কেজি ৩৫ টাকা) যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে সার ক্রয় করায় কৃষকের খরচ হয়েছে আরও অনেক বেশি। গত ১ সপ্তাহের পাবনার সুজানগর, বেড়া, সাঁথিয়া ও কাশিনাথপুর হাঁট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজারদর ১,২০০-১,৫০০ টাকা যা উৎপাদন খরচের সমান।
সুজানগর উপজেলার একজন কৃষক জানান, এবছর আমি ৮ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপন করি।পেঁয়াজ রোপনের পর থেকে অনেকবার বিসিআইসি ডিলারের কাছে গিয়েছি তবে সার পাই নি। পরে বাধ্য হয়ে ২,২০০ টাকা বস্তা ডিএপি সার কিনতে হয়েছে,এতে উৎপাদন খরচ হয়েছে অনেক বেশি। বাজারের যা অবস্থা তাতে লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না।
সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের একজন পেঁয়াজ চাষী জানান, আমরা (কৃষক'রা) বিসিআইসি ডিলারের কাছে গেলে বলে সার নেই অথচ রাত্রি বেলায় ট্রাকে পাচার করে।বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনেছি।দাম না বাড়লে লোকসানে পড়ে যাবো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন,বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে না। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। এছাড়াও সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয় টি খতিয়ে দেখে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আই/এ