ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি অভিযোগ এনেছেন তার ১৬ মাস বয়সী সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যাশলির দাবি, মাস্কের চ্যাটবট গ্রক ব্যবহার করে তার অবমাননাকর ও অশালীন ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়েছে, যা সামাজিকভাবে তাকে হেয় করেছে এবং মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে ফেলেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক সিটির একটি আদালতে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এই মামলাটি দায়ের করেন অ্যাশলি। তিনি জানান, গেল বছর থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তার বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে তিনি বিষয়টি কোম্পানিকে জানালেও শুরুতে কর্তৃপক্ষ তা নীতিমালাবিরোধী নয় বলে দাবি করে।
অ্যাশলির অভিযোগ, পরে ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো তার এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ও ভেরিফিকেশন চিহ্ন সরিয়ে নেওয়া হয়, যা তিনি প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার কারণে তিনি ভয়াবহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ইতিমধ্যেই এক্সএআইকে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে আইনি নোটিশ দিয়েছেন। তবে এর জবাবে এক্সএআই টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে পাল্টা মামলা করেছে। তাদের বক্তব্য, অ্যাশলি ব্যবহারকারী চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন, যেখানে সব আইনি বিরোধ টেক্সাসে নিষ্পত্তির শর্ত রয়েছে।
অ্যাশলির আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ এই পাল্টা মামলাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করে জানান, তারা নিউ ইয়র্কেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, নারীদের অনুমতি ছাড়া যৌন ডিপফেক তৈরি করা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
এই ঘটনায় ইলন মাস্কের চ্যাটবট গ্রক আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত এবং জাপানসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে গ্রক-এর ডিপফেক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। জাপান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনে এক্স-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএ//