মিয়ানমারে গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় চালানো ৪০৮টি সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এক ‘বিশ্বস্ত সূত্রের’ বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
জাতিসংঘ জানায়, নির্বাচন ঘিরে জান্তা সরকার ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। যার শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এই নির্বাচনকে আগেই বহু দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ‘প্রহসন’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সেনাবাহিনী–সমর্থিত ইউনিয়ন ও সংহতি পার্টি (ইউএসডিপি) বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। তবে বিরোধীরা বলছে, নির্বাচনটি ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং ফলাফল আগেই নির্ধারিত।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। এর ফলে বহু অঞ্চলে ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি। সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি), যা আগের দুটি নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয় পেয়েছিল, এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে এই নির্বাচনকে ‘সেনাবাহিনীর মঞ্চস্থ নাটক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিরোধী প্রার্থী ও বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, যা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
জাতিসংঘের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডেহ্যাভার জানান, এই হতাহতের পরিসংখ্যান ডিসেম্বরের প্রচারণা শুরুর সময় থেকে জানুয়ারির শেষ দিকের ভোটের দিন পর্যন্ত সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং ভয়ের কারণে মানুষ কথা বলতে না পারায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এমএ//