পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে সংঘটিত সাম্প্রতিক আত্মঘাতী ও সমন্বিত হামলার ঘটনায় জড়িত অন্তত ৯২ জন সশস্ত্র বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) পরিচালিত ওই হামলায় ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৮ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পেছনে ভারতের মদদ রয়েছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করলেও ভারত তা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিএলএ আগেই হামলার দায় স্বীকার করে নেয় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে।
তবে দুই পক্ষের দাবিই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতা বেলুচিস্তানে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনাগুলোর একটি, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত বিদ্রোহ ও সরকারি দমন-পীড়ন চলমান রয়েছে।
শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, কোয়েটাসহ প্রদেশের বিভিন্ন শহরে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। এর জবাবে পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালানো হয় এবং বিদ্রোহীদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ওইদিন কোয়েটার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন ও আশপাশের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মোবাইল নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলও স্থগিত রাখা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
হামলার আগে বিদ্রোহীরা গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি শহর ও জনপদে একযোগে আক্রমণ চালায়। এসব হামলায় পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনা, কারাগার ও সরকারি ভবন ছিল প্রধান লক্ষ্যবস্তু।
বিএলএ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কেন্দ্রীয় সরকার বেলুচিস্তানের বিপুল খনিজ ও গ্যাস সম্পদ ব্যবহার করলেও স্থানীয় জনগণ এর সুফল পায় না। একই সঙ্গে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তুললেও ইসলামাবাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরপরই বেলুচ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ইরান ও তালেবান-নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সঙ্গে অস্থির সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও আরব সাগরের দীর্ঘ উপকূলরেখা বেলুচিস্তানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করেছে।
পাকিস্তানের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত এই প্রদেশে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ মানুষের বসবাস। গ্যাস ও খনিজ সম্পদের দিক থেকে বেলুচিস্তানকে দেশটির সবচেয়ে সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এমএ//