বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, বঙ্গভবনের নামে ই-মেইল ব্যবহার করে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ডিভাইস হ্যাক করা হয়। তার ব্যবহৃত এক্স একাউন্ট হ্যাক হয়নি। ডিভাইস হ্যাক করেই বিতর্কিত পোস্টটি করা হয়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জামায়াত ও দলের আমিরকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ঘটানো হ্যাকের ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় শনিবার রাতে জিডি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট দেয় হ্যাকাররা। ওই সময়ে জামায়াত আমির কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন। এর লাইভ ভিডিও রয়েছে। ফলে ওই সময়ে জামায়াত আমিরের পক্ষে পোস্ট করা সম্ভব ছিল না ।
তিনি বলেন, পোস্টটি ৪টা ৫৩ মিনিটে জামায়াতের তধ্যপ্রযুক্তি টিমের নজরে আসে । বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদল করা হয়। ৫টা ২২ মিনিটে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকের বিষয়টি জানানো হয়। তবে এর আগেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকউন্ট থেকে আপত্তিকর ওই পোস্টটি শেয়ার করে, এর বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়।’
এত দ্রুত এক্স একাউন্ট উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে এ জামায়াত নেতা বলেন, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট নয়, হ্যাক হয়েছিল ডিভাইস। সেই ডিভাইসে এক্স অ্যাকাউন্ট লগইন ছিল। ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে হ্যাকাররা ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট দেয়। বিষয়টি নজরে এলে ডিভাইসে এক্সের সেশন সমাপ্ত করে ৫টা ৯ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদল করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি বঙ্গভবনের ব্যবহৃত সরকারি ই-মেইল ঠিকানা ‘assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd’ থেকে জামায়াত আমিরের ই-মেইলে মেইল আসে। এতে লেখা ছিল ‘নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য’। সরকারি ই-মেইল হওয়ায় জামায়াত আমিরের একটি ডিভাইস থেকে মেইলের অ্যাটাচমেন্ট খোলা হয়। এই ‘ফিশিং অ্যাটাচমেন্টে’ ক্লিকের কারণে ওই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের কাছে চলে যায়। একই মেইল আইডি থেকে দলের আরও কয়েকজন নেতার কাছেও এমন ই মেইল আসে।
এহছানুল মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে প্রচার ও আদর্শে না পেরে প্রতিপক্ষরা জামায়াতকে হেয় কররত হ্যাকের মতো জঘন্য কৌশল বেছে নিয়েছে। জামায়াত আমির শনিবার দুপুরে এক্স থেকে নারীদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জামায়াতের নেতৃত্বের ৪৩ শতাংশ নারী। অধিকাংশই কর্মজীবী। জামায়াত আমিরের পরিবারের নারীরাও কর্মজীবী। যিনি নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান, যার সহকর্মীরা নারী, যার পরিবারের নারীরা কর্মজীবী, তিনি কী নারীরের বাইরে কাজ করা সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু বলতে পারেন?’