জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজে নীতি-নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারেনি; আমাদের পক্ষেও সম্ভব না। যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। করপোরেট জগৎ থেকে রাজনীতি—সবখানে তাঁদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।
জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব। এই বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করা হবে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখব—‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল’।
তিনি দাবি করেন, বিগত শাসক শ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদের দেশের মালিক গণ্য করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবি, নীতি ও প্রতিষ্ঠান—সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসেবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে চুরি, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতারিত করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। অতীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যাঁরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ, সরকার ও স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হননি। তাঁরা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের মানুষ— তার সাক্ষী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যায় বড় একটি দেশ। এ জনসংখ্যাকে অনেকে সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলেও আমরা মনে করি এটি আল্লাহর নেয়ামত এবং এক বড় সম্পদ। তাই আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে নীতি ও নৈতিকতা ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে আমানত উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখব—‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। আমরা হযরত ওমরের (রা.) সেই বিখ্যাত উক্তি ও দায়িত্বশীলতা মনে রাখব যে, “ফোরাতের তীরে একটি কুকুর না খেয়ে মরে গেলেও আমি ওমর দায়ী থাকব”। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকব, ইনশাআল্লাহ।
আশা করি আপনারা আমাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রতি সমর্থন দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদেরকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন—এই আকুল আবেদন আপনাদের প্রতি রাখলাম। আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন, আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করি। একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করি যেখানে সবাই মান-ইজ্জত ও মর্যাদা নিয়ে বাস করবে।
আই/এ