আন্তর্জাতিক

তেহরানে ফের বিস্ফোরণ, জবাবে কুয়েতের তেল শোধনাগারে ইরানি ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারস্য নববর্ষ উদযাপনের মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েতের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে, কুয়েতে যখন ঈদুল ফিতরের উদযাপন চলছিল, তখন মিনাআল-আহমাদি তেল শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ধরে যায়। প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাতকারী এই স্থাপনাটি সাময়িকভাবে আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই হামলাকে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবে তেহরান এই অভিযান শুরু করে। উল্লেখ্য, দেশটির মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশই এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ হয়।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীসহ ইসরাইলের অভ্যন্তরের কিছু লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের দিকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা রয়েছে। বাহরাইন বলেছে, ইরানি হামলার ফলে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি গুদামে আগুন লাগে। আর সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা অল্প সময়ের মধ্যে এক ডজনের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি দিক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের নিজস্ব স্থাপনায় পুনরায় হামলা হলে তেহরান আর কোনো সংযম দেখাবে না।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #ইসরাইল #কুয়েত