যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত অবসানে একটি সমঝোতার দিকে দুই দেশই অগ্রসর হচ্ছে। শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ থামাতে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত হয়েছে এবং তা স্বাক্ষরের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের মার্কিন নৌ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরিকল্পনা ঘোষণার পর প্রণালি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে এবং আলোচনা প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়ে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ইরানের অবস্থান জানতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত হিসেবে আলোচনায় রয়েছে—ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয় বিবেচনা করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে দেওয়া তার এ বক্তব্যকে অনেকেই কংগ্রেসের চাপের প্রেক্ষিতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন সামরিক অভিযান চালাতে পারেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের সেই সময়সীমা সম্প্রতি শেষ হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল।
এমএ//