দেশজুড়ে

সামান্য বৃষ্টিতে ফসলরক্ষা বাঁধে ধ্বস ও ফাটল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার চৌতারা চৌতারা হাওরে ফসল রক্ষা  বাঁধে সামান্য বৃষ্টিতে ধস ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ পাউবো স্কীম কমিটির স্বেচ্ছাচারিতায় ও এ বছর অনভিজ্ঞ লোকদের দিয়ে কাজ করানোয় এ ঘটনা ঘটেছে।

চৌতাড়া হাওরে বাঁধের ধস ও পিআই নদীর বাঁধের ফাটল ধরার বিষয়টি শিকার করে পাউবোর (এসও) উপসহকারী প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বস্তা স্থাপনের কাজ করা হচ্ছে। পিআই নদী বাঁধের ফাটল মেরামত করে বস্তা স্থাপন করে বাঁশ দেওয়ার কথা পিআইসি কে বলা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- খালিয়াজুরীর মেন্দিপুর ও চাকুয়া ইউনিয়নের এলাকার হাওরের নাওটানা স্লুইজ গেইট বাঁধে মাটি ফেলার কাজ চলছেপাশের ঝুঁকিপূর্ণ আঞ্চাত্তল বাঁধেও বস্তা দেওয়া হয়নি। এমনকি পিআই নদীর উপর নির্মিত বাঁধে ফাটল থাকলেও মেরামত করা হয়নি। এ বাঁধটির ওপর চৌতাড়া হাওরের ফসল নির্ভর করে। এছাড়াও চৌতারা হাওরের ধলিমাটি জলমাহালের স্লুইসগেইটের বাঁধ বৃষ্টিতে ধসে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেএটিতে বস্তা স্থাপন করে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বাঁধগুলোর কাজ রাজনৈতিক নেতারা করেন। এবছর নির্বাচন হওয়ায় কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। আবার নির্বচনী ফলাফল কি হয় এতে কোনো প্রভাব পড়ে কি না এর জন্যও অনেকে অপেক্ষা করেন। বাঁধ যে মাটি দেওয়া হয়েছে এগুলোও বালি মিশ্রিত। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ভালোভাবে করা হয়নি। কয়েকটি বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে নদীতে জোয়ার এসেছে। পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন তাঁরা আতঙ্কে আছে

খালিয়াজুরি উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক আলী আকবর, চাকুয়া শিবির এলাকার নূর আহমদহাওরে এক ফসলি জমি। এ ফসলের আয় দিয়ে সারা বছরের পরিবারের জীবিকাসহ ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয়। কয়েক বছর আগাম বন্যা বা নদীতে পানির চাপ না থাকায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের ব্যাপক গাফিলতি হয়েছে। ভালোভাবে কাজ না করায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো ফসলহানীর কারণ হতে পারে।

এখনও সময় আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি ব্যবস্থা নেয় তাহলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব এবং ফসলও রক্ষা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে  চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি বলেন, ৪০টির মতো পিআইসি কমিটি সঠিকভাবে দেওয়া হয়। বাকি সবগুলো পিআইসি কমিটি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দের অনভিজ্ঞ লোকদের দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজের পিআইসি কমিটি করেন। ফলে এ কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। 

চৌতারা ১নং ফোল্ডারের একাংশের পিআইসি রেজাউল বলেন, ধ্বসে যাওয়া বাঁধটি আমার না এটি খলিল নামের আরেকজনের। আমার অংশে বস্তা স্থাপনও খলিল মিয়াকে চুক্তিতে দিয়েছি

অপরদিকে ওই অংশের সম্পাদক খলিল মিয়া বলেন, তার বাঁধে ফাটল বা ধস হয়নি। তবে শ্রমিকরা বলছে আংশিক ধসে যাওয়া বাঁধটি রেজাউলের

চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ফজলু মিয়া বলেন, 'চৌতারা হাওরের বাঁধ ধসে পড়া এবং পিআই নদীর বাঁধ ফাটলের ঘটনা ঘটেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন নিয়ে পরিদর্শন করেছি। তাদের কে দ্রুত মেরামত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে অবগত করেছি'।

খালিয়াজুরী খাবিটা স্কীমের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম কে বৃহস্পতি ও শুক্রবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

জেলা কাবিটা স্কীমের সদস্য সচিব ও নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত হোসেনকেও ফোনে পাওয়া যায় নি।

খালিয়াজুরীতে ফসলরক্ষা বাঁধে ধস ও ফাটলের বিষয়ে পাউবো জেলা স্কীমের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, আটপাড়ায় একটি সমস্যা হয়েছিল সমাধান করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ গুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ওই গুলো দ্রুত মেরামত করা হবে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #নেত্রকোনা