নেত্রকোনা জেলায় ১১টি আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এরমধ্যে কিছু কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু খালিয়াজুরীর গচিখাই হাওর এলাকায় দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রের (মুজিব কেল্লা) নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। নির্মাণ কাজের মান নিয়ে ওঠেছে অভিযোগ। ছয় মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নেত্রকোনা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খালিয়াজুরি উপজেলার গচিখাই দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্রটি এক একর জায়গার মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ভবন তিনটি অংশে বিভক্ত। এক পাশে পুরুষদের জন্য থাকার জায়গা নির্ধারণ করা। সেখানে ১৫০জন লোকের থাকার ব্যবস্থা আছে। মাঝখানে বিশাল ফাঁকা জায়গা আছে, যেখানে ভুক্তভোগীরা গবাদি পশু সহ বিভিন্ন মালামাল অক্ষত অবস্থায় রাখতে পারবেন। অপর পাশে ১৫০জন নারীর থাকার জন্য ব্যবস্থা করা আছে।
দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীর গচিখাই দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র (মুজিব কেল্লা) নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। পরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দরপত্র আহবান করে। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ২কোটি ৫৮লাখ ৩৪হাজার ২৫৭টাকা।
গচিখাই আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পায় নেত্রকোনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রিতম এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পটি ৭জুন ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মূল ভবনের অনেক কাজ অসম্পন্ন রয়েছে। অন্যান্য কাজ তো শুরুই করা হয় নি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গচিখাই আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের কাজ অনেক বাকী আছে। আবার ঠিকাদার ৬মাস ধরে কাজ বন্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যে প্রকল্প কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

গচিখাই গ্রামের রুবেল, আমিনুল ও আমেনা বেগম সহ অনেকেই বলেন, মুজিব কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই ধীর গতিতে করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজে অনেক অনিয়ম করা হয়েছে। মূল ভবনের কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষার আগেই কাজ শেষ করার দাবি করছি। বর্ষায় কোন দুর্যোগ হলে এলাকার যেন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে পারে।
গচিখাই আশ্রয় কেন্দ্রের প্রকল্প কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মেসার্স প্রিতম এন্টারপ্রাইজ এর প্রতিনিধি উত্তম জনান, ‘কাজের মেয়াদ বলতে আর কিছু নাই। কাজ করে দেউলিয়া হয়ে গেছি। নতুন মাটির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে যেখানে রড ধরা নাই সেখানে রড দিয়ে কাজ করেছি। তারপরও ফাটল দেখা দিয়েছে। কিন্তু এর বিল তো তারা দিচ্ছে না। ভবনের কাজ মোটামুটি শেষ হয়ে গেছে। টাকা না পাওয়ায় এবং অফিসে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত কারণে আরও বেশি ভুগছি। ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য জিওব্যাগ ধরা ছিল। এটি আবার সংশোধন করে ব্লক দেওয়ার জন্য পিডি অফিসে চিঠি দিয়েছে। ফলে এটির কাজও শেষ হচ্ছে না’।
ভবনের ওয়াল ফাটলের বিষয়টি জানেন না। তবে বৃক্ষ রোপনের ওয়াল ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করে খালিয়াজুরি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রীতি ভূষণ জানান, গচিখাই আশ্রয়ন কেন্দ্রের ভবনের মূল কাজ শেষ পর্যায়ে। ভাঙ্গন রোধের জন্য জিওব্যাগ ধরা ছিল। এটি রিভাইস করে প্রোটেকশনের জন্য ব্লক দেওয়ার অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে ভিজিট করেছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন,যোগাযোগ ব্যবস্থা দূর্গম হওয়ায় গচিখাই আশ্রয় কেন্দ্রের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রকল্পের ফান্ডে টাকা না থাকায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
আই/এ