আন্তর্জাতিক

ফুরিয়ে এসেছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, চলমান ইরান যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই মার্কিন সেনাবাহিনী ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে পেন্টাগনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং গোলাবারুদের মজুত পুনর্গঠনের বিষয়ে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা যায়।

মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিবেদনের বরাতে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেগুলো পুনরায় চালু করতে কয়েক বছর লাগতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরান ইতিমধ্যে ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে এবং এখন তাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করা। নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারলেও বছরে এর উৎপাদন মাত্র কয়েকশতে সীমাবদ্ধ। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার সামরিক পরিভাষা ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে তারা। একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার খরচ হয় এবং সময় লাগে দুই বছর, তাই উৎপাদন বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন।

যুদ্ধের শুরুতে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-এর সময় কয়েকটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত ইরানের মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হেনেছিল। ওই মর্মান্তিক ঘটনায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যা নিয়ে বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের অস্ত্র সংকট তৈরি করতে পারে। যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মার্কিন সেনাবাহিনী #ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র #পেন্টাগন