হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সংকীর্ণ জলপথ কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবরোধ বহাল রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ বাড়াতে দেশটির উপকূলীয় বন্দরে যাতায়াতকারী সব জাহাজের ওপর ওমান সাগরে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দুই পক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানে আবারও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেহরানও জানিয়েছে, যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। পেন্টাগনের নির্দেশনায় এসব রণতরিকে সহায়তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজও অঞ্চলে অবস্থান করছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হতে পারে।
কট্টরপন্থি মহলের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করে দেশটিকে আর্থিক সংকটে ফেলা এক ধরনের যুদ্ধাপরাধ, যার জবাবে নতুন ধরনের সামরিক কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান অতীতে সামরিক কাজে প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রাখে। এর আগে ২০০০ সালে সোভিয়েত নৌবাহিনীর জন্য প্রশিক্ষিত ডলফিন সংগ্রহ করেছিল তেহরান।
বিবিসির পুরোনো তথ্য অনুযায়ী, এসব সামুদ্রিক প্রাণীকে হারপুন বহন ও মাইন পরিবহনের মতো কাজে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মঘাতী মাইন বহনকারী ডলফিন ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন মোতায়েন করতে পারে। পাশাপাশি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকিও দিয়েছে, যা বৈশ্বিক ইন্টারনেট যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বার্লিনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসডব্লিউপির মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজির মতে, তেহরান এই অবরোধকে যুদ্ধের বিকল্প নয়, বরং যুদ্ধেরই আরেকটি রূপ হিসেবে বিবেচনা করছে। তাঁর বিশ্লেষণে, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের চেয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোকে ইরানের নীতিনির্ধারকেরা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ভাবতে পারেন।
এদিকে আইআরজিসির নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রেখেছে বলে জানা গেছে। ফলে এই রুট ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। ইরান জানিয়েছে, দ্রুত এসব মাইন অপসারণ সম্ভব নয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের নৌসামরিক সক্ষমতা স্বীকার করে বলেছেন, ওই অঞ্চলে সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী ইরানের।
এসি//