কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগান উজাড় করে এবং বালিয়াড়ি দখল করে অবৈধভাবে প্লট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি এই জমি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি করছে এ চক্র।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে ঝাউগাছ। বালিয়াড়ি ঘিরে তৈরি করা হয়েছে মৎস্য ঘের। বড় বড় এলাকা দখল করে সেগুলোকে প্লট আকারে ভাগ করা হয়েছে। দখলকৃত জায়গায় বসানো হয়েছে পাহারাদার এবং স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দখলচক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন মহেশখালীর বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সায়েম। তাঁর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সেলিম, সৈয়দ আলম, সোহেল, মোস্তাক, নাছির, মিজান, সাইফুল, গিয়াস উদ্দিন, মনির, হুমায়ন, এরশাদ ও কায়সারসহ আরও অনেকে। তাঁদের মধ্যে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহারকারী ব্যক্তিও রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন ধরেই এই দখল কার্যক্রম চলছে। আগে যেখানে পূর্ববর্তী সরকারের নেতাকর্মীদের নাম শোনা যেত, বর্তমানে নতুন করে অন্যদের নাম সামনে আসছে।
অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সায়েমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ করে অভিযোগ শুনে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ মিটিং’-এর কথা বলে কল কেটে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারা ঝাউবাগান কেটে বালিয়াড়ি দখল করে জমি বিক্রি করছে, তা অনেকেই জানেন। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে দখলকারীরা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।
কক্সবাজারের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. হাবিবুল হক বলেন, ‘দখলদারদের নির্দিষ্ট তালিকা আমাদের কাছে নেই, তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো গেলে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করা সম্ভব।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
আই/এ