৪০ কেজিতে মণ হলেও, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে ৪৫কেজিতে এক মণ হিসাব করে ব্যাপারিদের কাছজে ধান বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের ধানের বাজার তদারকিতে নেই কোন তৎপরতা। হাওরে ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা উৎসব করে সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত থাকলেও এবার তা বিষাদে রূপ ধারণ করেছে।
কৃষকদের দাবি ৪৫ কেজিতে এক মণ ধরে ধান কিনে নিচ্ছেন ব্যাপারীরা। এতে লোকসানে পড়ছেন তারা। কিন্তু ব্যাপারীরা বলছেন ভিন্ন কথা।
তাদের দাবি, মিলারদেরকে বাড়তি ধান দিতে হয়। আর বাড়তি ধান না দিলে মিলাররা ধান নিতে চায় না। তাই শেষে বাড়তি ধানের চাপ কৃষকের ঘাড়েই পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি মন ধান বিক্রির সময় আড়তদার ও পাইকাররা ৩-৫কেজি পর্যন্ত ধান বেশি নিচ্ছে। বাড়তি বা নির্ধারিত দরের পরেও অতিরিক্ত ধান না দিলে কিনতে চায় না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবছর জেলায় বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে ১লাখ ৯৮হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে হাওরেই ১লাখ ৩৪হাজার হেক্টর জমি। সরকারী হিসাব মতে শুধু হাওর থেকেই ৪লাখ ২হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়।
খালিয়াজুরী উপজেলার সাতগাও গ্রামের কৃষক আনিস মিয়া বলেন, এবার ভেজা ধান ৭০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মণ প্রতি ৫কেজি ধান বেশি দিতে হয়। এই বছর আমাদের লোকসান ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না।
মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের সুজন, লিয়ন ও সানি সহ অনেকেই বলেন, অতি বৃষ্টির কারনে জমিতে পানি জমে আছে। হার্ভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। প্রতি একর জমি ধান কাটতে শ্রমিকদের ১৫হাজার টাকা দিতে হয়। এরমধ্যে ধানের বাজারে সিন্ডিকেট। সরকার এবছর ধান ১৪৪০টাকা মণ দর নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এখন ৭৫০-৯০০ টাকা ধরে বিক্রি করতে হচ্ছে। নগদ টাকা না থাকায় বাধ্য হয়ে অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ কৃষকরা আরও জানান, ধান কাটা, মাড়াই কেয়ারিং খরচ সব মিলিয়ে এবার আমরা হাওর থেকে কষ্ট করে ধান আনার পরেও ঠিকমতো দাম পাইতেছি না। ব্যাপারীরা দাম অনেক কম বলে আবার মণেতে ৫কেজি করে ধান বেশি নেয়। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
খালিয়াজুরী হাওরে ধান কিনতে আসা ব্যাপারী কামাল মিয়া বাড়তি ধান নেওয়ার কথা শিকার করে জানান, ‘আমরা কাঁচা ধান কিনতেছি, তাই বাধ্য হয়ে ওজনে বেশি নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন কোয়ালিটির ধান ৭০০, ৮৫০, ৯০০ টাকা দরে ধান কিনতেছি। ২-৩কেজি ধান প্রতি মণে বেশি নিতে হয়। বাড়তি ধান মিলারদেরকে দিতে হয়’।
এছাড়াও আশুগঞ্জ থেকে ধান কিনতে আসা পাইকার হবি মিয়া বলেন, আমরা বস্তার ওজন সহ মণ প্রতি ৩কেজি বেশি নিচ্ছি। আগে থেকেই এই এলাকার প্রচলন। মিলারদেরকে এই অতিরিক্ত ধান না দিলে তারা ধান নিবে না।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করেছি। সরকার কেজি ৩৬টাকা ও প্রতি মণ ১৪৪০টাকা দর নির্ধারণ করেছে। ৪০কেজিতে মণ। অতিরিক্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। এর ব্যতিক্রমের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দরে কম ও ওজনে বেশী নেওয়ার ব্যাপারে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে ১৪৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের কিছু করার নাই’।
আই/এ