আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

‘ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকলেও বদলে যেতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা তেহরানকে উল্টো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ বিশ্লেষক সাইমন টিসডল। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হামলা ও হুমকির পর ইরানের কট্রোরপন্থীরা এখন পারমাণবিক অস্ত্রকেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার একমাত্র কার্যকর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখতে পারে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০০৩ সালের পর থেকে ইরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক বোমা তৈরির সুস্পষ্ট চেষ্টা করেছে—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক হামলা, অবরোধ এবং সরাসরি সামরিক হুমকি পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একাধিকবার হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের কাছে বড় ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তেহরান মনে করতে পারে, ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে পারমাণবিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

সাইমন টিসডল আরও বলেন, ইরানের নিজস্ব পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করা সহজ নয়। পাশাপাশি দেশটি চাইলে বাইরের কোনো রাষ্ট্র থেকেও প্রযুক্তি বা সহায়তা পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষণে ইউক্রেন, ইরাক ও উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না, তারা বড় শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। বিপরীতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা যায়।

এছাড়া বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কার্যকারিতা কমে যাওয়া, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ভাঙন এবং নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা বিশ্বকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান টিসডল।

ইরান যদি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগোয়, তাহলে সৌদি আরব, মিশর কিংবা তুরস্কের মতো দেশও একই পথে হাঁটতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান