গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাসহ বেশ কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ন স্থানে প্রতিদিন বসছে অবৈধ হাটবাজার। এতে যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন এই মহাসড়কে চলাচলকারীরা। ট্রাফিক পুলিশের অফিস থেকে মাত্র ৫০-১০০ গজ দূরত্বে দিনের আলোয় শত শত দোকান নিয়ে এ হাট পরিচালিত হলেও এটি উচ্ছেদের প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা নয়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রাসহ কালিয়াকৈরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে—ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল করে নিয়মিত বসছে অবৈধ হাটবাজার।
মহাসড়কের সার্ভিস লেন ও ফুটপাত সম্পূর্ণভাবে দখল করে কাপড়, জুতা, খেলনা, হাঁড়ি-পাতিল, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অসংখ্য ভাসমান দোকান বসেছে। ফলে পথচারীদের জন্য কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। নারী-পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই অবৈধ বাজারের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। জরুরি সেবার যানবাহন, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও অনেক সময় আটকে পড়ছে।
কলেজছাত্র রাকিব হাসান বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। তীব্র যানজটে মাঝেমধ্যে প্রায় ১-২ ঘন্টা আটকে থাকতে হয়। চোখের সামনে এমন পরিস্থিতি চললেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।”
শাহনাজ নামের গার্মেন্টসের এক নারী শ্রমিক বলেন, “ফুটপাত না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে এখানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও কথিত কিছু ‘নেতা’র ছত্রছায়ায় কয়েকজন ব্যক্তি এই অবৈধ হাট নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ দোকান থেকে স্থান ও ক্ষেত্রবিশেষে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন মহলে পৌঁছায়, ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থায়ী হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাঁদা হিসেবে দিতে হয়। নাম প্রকাশ করলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, “মহাসড়কে দখল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাতুল আলম বলেন, “আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পুনরায় দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আই/এ