নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আব্দুর রহিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নয় বছরের এক শিশু কে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। গত শনিবার সকালে ওই শিশু বাড়ির সামনের হাওরে গরু আনতে গেলে বৃদ্ধ একা পেয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত আব্দুর রহিম উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ ধর্ষণের ঘটনায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) সাকাল ১০টায় উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামে শিশুটিকে বাড়ির পাশের হাওরে গরু আনতে পাঠায় তার মা। দেরি হওয়ায় কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা নিজেই হাওরে যান। মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ধলেশ্বর হাওরের মাঝখানে একটি গাব গাছের নিচে আব্দুর রহিমকে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাতে দেখে।
এদিকে শিশুটি চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে শিশুটির মা এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মোড়লরা রহিমের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে পুলিশের তৎপরতায় সোমবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন ৷ আজ মঙ্গলবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার পর পরই স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওঠে পড়ে লাগে। একই সাথে এই ঘটনা বাইরের কাউকে না বলার জন্য হুমকি প্রদান করে। এমন হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারটি নির্যাতিত শিশুটিকে তড়িঘড়ি করে তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় ।
ওসি মো. মেহেদী মাকসুদ বলেন, আজ দুপুর শিশুটির বাবা আব্দুর রহিম নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন। আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সৃষ্টিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আই/এ