কানাডার মাটিতে ফুটবলপ্রেমীরা সাক্ষী হলো এক চিরন্তন বিদায়গাথার। এক যুগের দুই মহাতারকার একজন পর্তুগালের গোলমেশিন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অপরজন ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের জাদুকর লুকা মদ্রিচ।
চল্লিশোর্ধ্ব বয়সেও দুজনের খেলায় ছিল তারুণ্যের সেই চেনা ক্ষিপ্রতা। পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়ার এই ম্যাচটি কেবল একটি লড়াই ছিল না, এটি ছিল সময়ের বিরুদ্ধে দুই কিংবদন্তির টিকে থাকার চূড়ান্ত সংগ্রাম।
শেষ পর্যন্ত মাঠের এই মহাকাব্যিক যুদ্ধে একজন বিজয়ী হয়ে টিকে রইলেন, আর অন্যজনকে নিতে হলো আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে চিরবিদায়।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে লড়াই করে হারার পরই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান মাঝমাঠের প্রাণভোমরা লুকা মদ্রিচ। তার এই সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের হয়ে খেলা ২০১ ম্যাচ গোল করেছেন ২৯ টি। তবে গোলের সংখ্যা কম হলেও মাঠে তার প্রভাব, নেতৃত্ব আর ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ছিলো অসাধারণ।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে উঠে আসা এক অদম্য যোদ্ধার নাম লুকা মদ্রিচ-যিনি আজ ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০১৮ সালে দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে রূপকথা লেখার কারিগর ছিলেন তিনি, যার স্বীকৃতিস্বরূপ পান গোল্ডেন বল।
একই বছরে মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙ্গে জিতেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যালন ডি’অর। ২০২২ বিশ্বকাপেও ক্রোয়াটদের সেমিফাইনালের স্বপ্নসারথি ছিলেন এই জাদুকর।
টটেনহ্যাম হটস্পার ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে ক্লাব ফুটবলেও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান মদ্রিচ। তবে রিয়ালের জার্সিতে আকাশচুম্বী সাফল্য পেলেও, ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বারবার গৌরবান্বিত করার অগ্রনায়ক হিসেবেই তিনি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।
আর/আই