ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার আনুষ্ঠানিকতা এখন চলছে পবিত্র শহর কোমে। এর আগে পরবর্তী ধর্মীয় আচার পালনের জন্য তাদের কফিন তেহরান থেকে কোমে নেওয়া হয়।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) কোম শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত জামকারান মসজিদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংস্থাটির প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো শোকাহত মানুষ মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়েছেন।
আজও রাজধানী তেহরানে ছিল শোকের আবহ। ভোর থেকেই কালো পোশাক পরিহিত মানুষের ঢল নামে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে। কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন বহনকারী শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে। এ সময় শোকাহতদের কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয় ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ স্লোগান। ছয় দিনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কর্মসূচির আজ তৃতীয় দিন।
রাষ্ট্র-সমর্থিত মিজান সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে আরও দেখা যায়, শোকাহতদের একাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করে প্রতীকী ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন ইরানের কট্টরপন্থী সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। যুদ্ধের শুরুতে দেশটির রাষ্ট্র-সমর্থিত কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
তেহরান থেকে প্রায় আশি মাইল দক্ষিণে অবস্থিত কোমকে ইরানের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কোম সেমিনারি এই শহরেই অবস্থিত। একই সঙ্গে এখানে রয়েছে ফাতিমা মাসুমেহর পবিত্র মাজার, যা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর বংশধর এবং দ্বাদশ শিয়া মতবাদের অষ্টম ইমাম আলী আল-রিদার বোন এখানে সমাহিত আছেন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও এই সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এবং তার পূর্বসূরি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির অধীনে অধ্যয়ন করেছিলেন।
খামেনির মরদেহ বৃহস্পতিবার দাফনের জন্য ইরানের মাশহাদ শহরে নেওয়া হবে। তবে তার আগে পরবর্তী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তার কফিন ইরাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন
এসি//