ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৭টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরে তার দাফনকাজ শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনাসহ আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭টি বিস্ফোরণের মধ্যে দুটি ঘটেছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান শহর বুশেহর এবং এর সীমান্তবর্তী চোঘাদাক শহরে।
বুশেহর নগর প্রশাসনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানিয়েছেন, সেখানকার একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মূলত প্রতিরক্ষাবাহিনীর এই পাল্টা অ্যাকশনের কারণেই বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় আরেক শহর কানারাকেও দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শহরটির গভর্নর মোহাম্মদ ইউনূস হাক্কানি জানান, কানারাকে অবস্থিত ইরানি নৌবাহিনীর একটি সেনানিবাসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান থেকে বোমা ফেলা হয়েছে। এই হামলার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অবশিষ্ট তিনটি বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রহস্যময় বিস্ফোরণের পেছনে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা কাজ করে থাকতে পারে। গত ৫ জুলাই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই ঘটনার পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আর/আই