যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে অচলাবস্থায় থাকা আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তেজনা কমিয়ে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর আলোচনার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই কাতারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদল তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে এখনো সন্দেহ প্রকাশ করছে তেহরান।
ইরানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলায় দেশটির পাঁচটি প্রদেশের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সমঝোতা স্মারক কার্যত বাতিল ঘোষণা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং প্রয়োজন হলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই দেশের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি বন্ধ করিনি। যুক্তরাষ্ট্র যদি যেকোনো সময় সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত।’
গালিবাফ আরও বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান বিশ্ববাসীর অগ্রাধিকার হতে পারে। তবে সবাইকে বুঝতে হবে, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংঘাতের কখনোই অবসান হবে না।’
ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, চাপ প্রয়োগ করে কূটনীতি পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে প্রথমে সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
ইরানের দাবি, আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—
- সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
- হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া।
- আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানির অধিকার নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হলেও যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই। তার এই মন্তব্যের পরই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
এমএ//