লাইফস্টাইল

লিফটে আটকে গেলে প্রথম ৫ মিনিটে যা করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে লিফট যেন সময় বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ সঙ্গী। কিন্তু কখনও যদি হঠাৎ মাঝপথে থেমে যায় সেই লিফট, নিভে যায় আলো, আর চারদিকে নেমে আসে নিস্তব্ধতা—তখন কয়েক সেকেন্ডেই স্বাভাবিক মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। বুক ধড়ফড় করা, ঘামতে শুরু করা কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া—এসবই এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে ভয় নয়, সঠিক পদক্ষেপই তখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিফটে আটকে গেলে অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কের বশে এমন কিছু কাজ করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই আগে নিজেকে শান্ত রাখুন, এরপর নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করুন।

প্রথমেই যেসব কাজ করবেন

জরুরি সতর্কবার্তা পাঠান
লিফটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলে থাকা ঘণ্টা বা বেলের চিহ্নযুক্ত বোতাম কয়েক সেকেন্ড চেপে রাখুন। এতে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী বা আশপাশের লোকজন বুঝতে পারবেন যে লিফটে কেউ আটকে আছেন।

ইন্টারকম ব্যবহার করুন
অনেক আধুনিক লিফটে ইন্টারকমের ব্যবস্থা থাকে। সেটি ব্যবহার করে নিরাপত্তাকর্মী বা কেয়ারটেকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করুন।

ফোনে সাহায্য চান
মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকলে পরিবারের সদস্য, ভবনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি কিংবা জরুরি সেবার নম্বরে ফোন বা বার্তা পাঠিয়ে নিজের অবস্থান জানান।

প্রয়োজনে মোবাইলের আলো ব্যবহার করুন
লিফট অন্ধকার হয়ে গেলে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করুন। এতে মানসিক চাপ কিছুটা কমে। তবে ব্যাটারি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন ছাড়া আলো জ্বালিয়ে রাখবেন না।

যে ভুলগুলো কখনো করবেন না

  • লিফটের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করবেন না। যেকোনো সময় বিদ্যুৎ ফিরে এলে বা লিফট সচল হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
  • আতঙ্কে লাফালাফি বা অযথা হাঁটাহাঁটি করবেন না। এতে ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও বৃদ্ধি পায়।
  • সম্ভব হলে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়ান অথবা মেঝেতে বসে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করুন।

প্যানিক অ্যাটাক শুরু হলে কী করবেন

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা তীব্র উদ্বেগ শুরু হলে নিজেকে স্থির রাখুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করুন।

একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো বক্স ব্রিদিং। প্রথমে সম্পূর্ণ শ্বাস ছাড়ুন। এরপর প্রায় ২০ সেকেন্ড স্থির থাকুন। তারপর ১০ সেকেন্ড ধরে গভীরভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস পাঁচ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ধীরে ধীরে ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। প্রয়োজন হলে একই প্রক্রিয়া কয়েকবার অনুসরণ করুন।

এ ছাড়া এক নাসারন্ধ্র বন্ধ রেখে অন্য নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং পরে অপর দিক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ার প্রণায়ামও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

যাদের ক্লস্ট্রোফোবিয়া আছে

বদ্ধ স্থানে ভয় পাওয়ার প্রবণতা থাকলে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন করুন। টানা ১০ বার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের পর ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিয়ে আবার একইভাবে ১০ বার করুন।

এর পাশাপাশি দুই হাত শক্ত করে মুঠো করুন, তারপর ছেড়ে দিন। এভাবে পাঁচবার করলে শরীরের টান কমতে পারে এবং মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়।

নিজেকে মনে করিয়ে দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

লিফটের ভেতরে সাধারণত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। তাই লিফটে আটকে গেলেই অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। নিজেকে এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে উদ্বেগ অনেকটাই কমে।

বন্ধ দরজার দিকে একটানা তাকিয়ে না থেকে চোখ বন্ধ রাখুন। সম্ভব হলে পরিচিত কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলুন বা ভয়েস মেসেজ পাঠান। এতে মন অন্যদিকে ব্যস্ত থাকবে।

আরেকটি সহজ কৌশল হলো মনে মনে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত গোনা, এরপর ১০০ থেকে আবার উল্টোভাবে ১ পর্যন্ত গোনার চেষ্টা করা। এই অনুশীলন মস্তিষ্ককে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখে এবং আতঙ্কের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

লিফটে আটকে পড়া নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। তবে মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি সাময়িক পরিস্থিতি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য, সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে নিরাপদে বেরিয়ে আসার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #লিফট