ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে একটি গোপন নৌ-করিডোর চালু করেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই করিডোর ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিরাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের উপকূলঘেঁষা দক্ষিণ চ্যানেল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে। এই পথে যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে, তা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
এদিকে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন উন্মুক্ত।’ তার দাবি, সেখানে প্রচুর জাহাজ চলাচল করছে এবং তেলের দামও আবার কমছে।
তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, বাস্তবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত। গেল মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন এ সংখ্যা ছিল নয়টি। গেল ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১টি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ট্যাংকার নিজেদের অবস্থান শনাক্ত করা এড়াতে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালি পার হয়ে থাকতে পারে। ফলে নজরদারি ব্যবস্থায় ধরা পড়া জাহাজের সংখ্যা দিয়ে প্রকৃত চলাচলের পুরো চিত্র পাওয়া নাও যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ইরান যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। চলমান সংঘাতের কারণে সেই প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমেছে।
এমএ//