দেশজুড়ে

কুয়াকাটায় বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। দখল নেওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোতে শুঁটকি, আচারসহ পর্যটকদের প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হতো। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মহিপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন আজ (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত  ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তাঁর ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি নুরে আলম শেখ, পৌর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মিয়া, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক  রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ প্রায় দেড় থেকে দুই 'শ ব্যক্তি এই দখল প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মারধর করার পাশাপাশি মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যান।

ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান গুলো ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই ব্যক্তিরা দোকান গুলো দখলের পাঁয়তারা করে আসছেন এবং তারা তালা লাগান। পরে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় প্রশাসন জমির কাগজপত্র দেখে বেল্লাল মোল্লাকে মালিক হিসেবে ঘোষনা করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দোকান দখল নিতে গেলে ব্যবসায়ীদের কেউ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি সহায়তা চান। পরে মহিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এদিকে পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানিদের মারধর করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ অন্যরা।

শুঁটকির দোকান মালিক রুবেল মৃধার অভিযোগ,২০১৮ সাল থেকে তিনি স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে স্টল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। রবিবার সকালে প্রায় দেড় থেকে দুই শ ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁর ও অন্যান্য দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে তাঁদের চলে যেতে বলেন। এ সময় তাঁরা প্রতিবাদ করলে দখলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের মারধর করে দোকান থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।

রুবেল মৃধা বলেন, দখলের সময় তিনি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মহিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি খারাপ দেখে ব্যবসায়ীদের মালামাল নিয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মহিপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু তাঁরা লিখিত অভিযোগ দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ীদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন,‘৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশের একজন সদস্য সেখানে গিয়ে ভুক্তভোগীকে খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফোন করা ব্যক্তি ফোন না ধরায় স্থানীয় এক ব্যক্তি অ্যাপের মাধ্যমে মনির নামের একজনকে শনাক্ত করেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে হয়তো মনিরকে কিছু বলা হয়ে থাকতে পারে। তবে তখন পুলিশ সেখানে ছিলো না

জমির মালিক দাবি করা বেল্লাল মোল্লার অভিযোগ,‘উল্লেখিত জমি নিয়ে পটুয়াখালীর একটি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযুক্তরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সব দোকান দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে দোকান গুলো মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সেনাক্যাম্প, উপজেলা ভূমি অফিস ও মহিপুর থানা-পুলিশের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হলে তাঁরা উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল থাকার পরামর্শ দেন। অথচ এসব সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর জমিতে থাকা ২০টি দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে দোকান গুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লির মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ছাড়া দখলে অংশ নেওয়া কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলকে কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে অন্য এক ব্যক্তির কাছে ফোনটি ধরিয়ে দেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উল্লেখিত দোকান গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেনএ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার।

তিনি বলেন, ‘জমিটি লুজ খতিয়ানের হওয়ায় বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে পুনরায় দখল ও দোকান গুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া -রাঙ্গাবালী) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন,‘ওই এলাকায় উভয় পক্ষের জমি ছিল। সাগরে জমি বিলীন হওয়ার সময় একাধিক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করায় আজকের এই ঘটনা ঘটেছে।

সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন,‘যেহেতু সেখানে জমি নেই, তাই বিষয়টির সমাধান জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে দলীয় কোনো পরিচয় নয়, মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণেই ঝামেলা হয়েছে

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কুয়াকাটা #বিএনপি