ইন্দোনেশিয়ায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ২৪০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে একটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জাহাজের মাধ্যমে ১০৩ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো প্রায় ১৪০ জনের সন্ধান চলছে।
‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটি শনিবার পূর্ব জাভার সুরাবায়া শহর থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তান প্রদেশের রাজধানী বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে জাভা সাগরে তীব্র দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ার পর জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বানজারমাসিনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান ই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাহাজটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছিল, যাত্রাপথে জাহাজটি খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়েছে।
পরে জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থানের দিকে উদ্ধারকারী দল, কয়েকটি জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ত্রিসাক্তিতে একটি প্রধান উদ্ধারকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০৩ জনকে বিভিন্ন জাহাজের মাধ্যমে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে পূর্ব জাভার একটি বন্দরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে জাহাজটির কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কালিমন্তানের বানজারমাসিন শহরটি বোর্নিও দ্বীপে অবস্থিত। জাভা সাগরের ওই অঞ্চলে নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজ দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। আকাশপথের তুলনায় সমুদ্রপথে যাতায়াত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় এসব নৌযানের ওপর দেশটির মানুষের ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। তবে নৌযানের নিরাপত্তাবিধি সব ক্ষেত্রে কঠোরভাবে কার্যকর না হওয়ায় দেশটিতে নৌদুর্ঘটনার ঘটনাও তুলনামূলক বেশি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসি//