দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। কখন বিদ্যুৎ ফিরবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। এমন অবস্থায় মোবাইল ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে জরুরি যোগাযোগ থেকে শুরু করে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হতে পারে।
বর্তমানে মোবাইল ফোন শুধু কথা বলা বা বার্তা পাঠানোর মাধ্যম নয়। খবর জানা, ইন্টারনেট ব্যবহার, মোবাইল ব্যাংকিং, জরুরি যোগাযোগসহ প্রতিদিনের নানা কাজে এর ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই বিদ্যুৎ না থাকলেও কীভাবে ফোনের চার্জ ধরে রাখা যায়, সে বিষয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে দীর্ঘ লোডশেডিংয়েও অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা সম্ভব।
পাওয়ার ব্যাংক হতে পারে সহজ সমাধান
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ফোন চার্জ দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো পাওয়ার ব্যাংক। লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগেই পাওয়ার ব্যাংক পুরোপুরি চার্জ করে রাখুন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার আশঙ্কা থাকলে বেশি ধারণক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক কাছে রাখা যেতে পারে।
তবে শুধু পাওয়ার ব্যাংক থাকলেই হবে না, সেটিতেও পর্যাপ্ত চার্জ আছে কি না, তা নিয়মিত নিশ্চিত করতে হবে। ফোনে ব্যবহারের পর আবার পাওয়ার ব্যাংকটি চার্জ করে রাখুন। জরুরি সময়ে সেটিতে চার্জ না থাকলে প্রয়োজনের মুহূর্তে সেটি কোনো কাজে আসবে না।
গাড়ি হতে পারে বিকল্প চার্জের উৎস
বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলেও গাড়ি থাকলে সেটিকে সাময়িকভাবে ফোন চার্জ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যায়। গাড়ির ইউএসবি সংযোগ বা ১২ ভোল্টের চার্জিং সকেটে উপযুক্ত চার্জার লাগিয়ে ফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
তবে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখা ভালো। এতে গাড়ির ব্যাটারি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। বন্ধ গ্যারেজ বা কোনো আবদ্ধ স্থানে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখা যাবে না। এতে কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস জমে গুরুতর বিপদ হতে পারে।
ল্যাপটপ থেকেও মিলতে পারে জরুরি চার্জ
লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগে ল্যাপটপে পর্যাপ্ত চার্জ থাকলে সেটিকেও ফোনের জন্য সাময়িক চার্জের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উপযুক্ত ইউএসবি সংযোগ ও তার থাকলে ল্যাপটপ থেকে ফোনে চার্জ দেওয়া সম্ভব।
তবে দেয়ালের বিদ্যুৎ সংযোগের চার্জারের তুলনায় ল্যাপটপ থেকে ফোনে চার্জ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ফোনের চার্জ একেবারে শেষ হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি প্রয়োজনে কিছুটা চার্জ তুলে নেওয়া ভালো। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ল্যাপটপের নিজের ব্যাটারিও অপ্রয়োজনীয়ভাবে খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রোদ থাকলে কাজে লাগাতে পারেন সৌর চার্জার
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বহনযোগ্য সৌর চার্জারও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে এসব যন্ত্র মোবাইল ফোনসহ ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্রে চার্জ দিতে পারে।
তবে সৌর চার্জারের কার্যকারিতা সূর্যের আলোর ওপর নির্ভরশীল। মেঘলা আবহাওয়া বা আলো কম থাকলে চার্জ হতে বেশি সময় লাগতে পারে। তাই দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের জন্য এটিকে জরুরি বিকল্প হিসেবে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো।
চার্জ বাঁচিয়ে রাখাও জরুরি
বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু বিকল্প উপায়ে ফোন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করলেই হবে না, হাতে থাকা চার্জও যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করতে হবে। এ জন্য ফোনের ব্যাটারি সাশ্রয়ী বা শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখুন। প্রয়োজন না থাকলে ব্লুটুথ, অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত ইন্টারনেট সংযোগ ও মোবাইল ইন্টারনেটের মতো সুবিধাগুলো বন্ধ রাখুন।
লোডশেডিং দীর্ঘ হতে পারে বুঝতে পারলে ফোনের চার্জ একেবারে শূন্যে নেমে যাওয়ার আগেই চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে ভালো। একই সঙ্গে ফোনের জন্য মূল নির্মাতার দেওয়া বা অনুমোদিত চার্জার ও তার ব্যবহার করা উচিত।
দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই একটি পূর্ণ চার্জ করা পাওয়ার ব্যাংক, গাড়িতে ফোন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা কিংবা সৌর চার্জার প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ না থাকলেও জরুরি মুহূর্তে মোবাইল ফোন সচল রাখা অনেক সহজ হবে।
এসি//