দেশজুড়ে

গর্ভে তিন মাসের জমজ সন্তান, স্ত্রী স্বীকৃতির দাবি নিয়ে ঘুরছেন তরুণী

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন  আর্নি আক্তার অনামিকা (২৬) তার দাবি বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে স্বামী তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও পরে বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়ে নানা টালবাহানা করছেন এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত রাসেল মিয়া (২৬) বর্তমানে পলাতক রয়েছে। রাসেল কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোলাখানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর চন্দ্র রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগকারী আর্নি আক্তার অনামিকা (২৬) বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানি সড়কের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম রফিক মির্জা।

অনামিকার দাবি, ঢাকায় রাসেল মিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রায় দুই মাস তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হয়। একপর্যায়ে রাসেল তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে একজন হুজুরের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বিয়ের পর রাসেল ব্যবসার কাজে প্রায় আট মাস মিসরে অবস্থান করেন। প্রায় ১০ মাস পর দেশে ফিরে ঢাকায় কিছুদিন তাঁর সঙ্গে থাকার পর গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

তিনি বলেন, পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফোন করে তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে রাসেল কিন্তু রাসেল তাকে নিজের বাড়িতে না তুলে ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকায় রাসেলের মামার বাড়িতে রাখেসেখানে ১০ দিন থাকার পর রাসেল মিয়া নিজ বাড়িতে স্ত্রী হিসেবে নিয়ে যায়

অনামিকা আরও অভিযোগ করেন, চার মাস শ্বশুর বাড়ি থাকার পর হঠাৎ ব্যবসায় লোকসান হয়েছে জানিয়ে রাসেল তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।বিয়ে নিবন্ধন করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি বাবার জমি ও নিজের গহনা বিক্রি করে ওই টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর বিয়ে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিলে বিষয়টি নিয়ে রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নানা টালবাহানা শুরু করেন

 অনামিকার দাবি, বর্তমানে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে বিষয়টি স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও তাঁরা তা মেনে নিচ্ছেন না। উল্টো তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে

তিনি জানান,বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ আগস্ট আদালতে গিয়ে স্ত্রীর দাবি আদায়ে স্বামী রাসেল মিয়া, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামে তাঁর নিকট আত্মীয়স্বজন না থাকায় সেখানে তিনি অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। থাকার জায়গা ও চিকিৎসাসেবার সংকটে সরকারি হাসপাতালেই দিন কাটাতে হচ্ছেতিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মামলা করার পরেও স্বামীর খোঁজে গত তিন দিন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অবস্থান করছে।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাসেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র রায় জানান, মামলায় মোট পাঁচজন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেল মিয়াসহ বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগকারী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। তাঁর গর্ভে যমজ সন্তান রয়েছে

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কুড়িগ্রাম #স্ত্রী