হোয়াইট হাউসে তিন গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর এবার প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের টিভি পুল কাভারেজও বন্ধ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস কাভারেজ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন তিনি।
পরদিন শনিবার তিন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সিএননের বেটসি ক্লেইন ও পলিটিকোর শায়েন হাসলেটের প্রেস পরিচয়পত্রও নিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় তিন গণমাধ্যম।

মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ ও মতপ্রকাশের অধিকার এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষা লঙ্ঘন করেছে। নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তারা।
মামলার শুনানি আগামীকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর)। এর আগে মঙ্গলবারের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিযোগের জবাব দিতে বলেছেন বিচারক টিমোথি কেলি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ে হোয়াইট হাউসের টিভি কাভারেজেও। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের টিভি পুল কাভারেজ দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের। তবে হোয়াইট হাউস সিএনএনকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজও বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ফলে সোমবার হোয়াইট হাউসের লনে হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের বক্তব্যের অডিও সরাসরি পাওয়া যায়নি। টিভি পুল ব্যবস্থায় সাধারণত একটি নেটওয়ার্ক প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে ভিডিও ও অডিও অন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেয়।
তবে অন্য সংবাদ কাভারেজ চালু রয়েছে। সংবাদপত্র ও রেডিওর পুল ব্যবস্থা বহাল আছে। সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানও বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কাভার করছে।

সোমবার নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, মত বা সমালোচনা যাই হোক, সব গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত।
অন্যদিকে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে বলেন, গণমাধ্যমকে ন্যায্যভাবে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করলে তাদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অধিকার তার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগেও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে।
সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর হোয়াইট হাউস ও গণমাধ্যমগুলোর।
এসি//