সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
রোববার (১১ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা।
বাংলাদেশ
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গেল ১০ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শিগগিরই কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, হামলায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংহতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে সংঘাতের গুরুতর বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে, সহিংসতা দীর্ঘায়িত করে এবং ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তোলে।
মিশর
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানুষের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
কাতার
কাতার হামলাটিকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বেসামরিক নাগরিক ও বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির বৈধ পদক্ষেপের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দোহা।
পাকিস্তান
পাকিস্তান হামলাটিকে ‘জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইসলামাবাদ।
জর্ডান
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশটি সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথিদের হামলাকে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ওমান
ওমান হামলার নিন্দা জানিয়ে সংযম ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা জরুরি।
ফিলিস্তিন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশটির নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তারা।
জাপান
সৌদি আরবে নিযুক্ত জাপানের দূতাবাস হুথিদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো পরিস্থিতিতেই বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
কানাডা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবে হুথিদের হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ধরনের বেপরোয়া সহিংসতার কঠোর নিন্দা জানায় কানাডা।
এমএ//